মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
আমানতগঞ্জে পুকুর ভরাট বন্ধের নির্দেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের আলহাজ্ব নুরুল আমিন-আব্বাস কমিটি সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপিতে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিভাগে তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে : তথ্য মন্ত্রী বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির ১০ তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন আইনমন্ত্রী চরকাউয়ায় কবির মুন্সীকে নিয়ে অপপ্রচার কীর্তনখোলা নদীতে রাতের আঁধারে চোরাই তেলের সিন্ডিকেট চর্ম ও যৌন চিকিৎসায় সফলতায় বরিশালে রোগীদের মন জয় করেছেন ডাঃ রেজওয়ান কায়সার বরিশালে সিকদার ফার্নিচার এন্ড মার্বেল গ্যালারির বিরুদ্ধে নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগ লাকুটিয়া খাল খনন সম্ভব না হওয়ায় সরকারি বরাদ্দের অর্থ ফেরত বাবুগঞ্জে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে হামলা: নারীসহ একই পরিবারের ৪ জন গুরুতর আহত
আমানতগঞ্জে পুকুর ভরাট বন্ধের নির্দেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের

আমানতগঞ্জে পুকুর ভরাট বন্ধের নির্দেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় ৬৯ শতাংশের একটি পুকুর অবৈধভাবে ভরাটের অভিযোগে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে ভরাট করা অংশের মাটি-বালি অপসারণ এবং জলাশয়টির পূর্বের শ্রেণি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

 

সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বক্ষব্যাধি হাসপাতাল সংলগ্ন আমানতগঞ্জ মৌজার জেএল নম্বর-৪৮, আরএস ১০৭০ নম্বর দাগে থাকা ৬৯ শতাংশের একটি পুকুর/দিঘি/ডোবা অবৈধভাবে ভরাটের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্টদের ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি ইতোমধ্যে ভরাট করা অংশের মাটি-বালি অপসারণ করে জলাশয়টি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

পরিবেশ অধিদপ্তরের চিঠিতে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর জলাধার সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভরাট করা অংশ অপসারণ করে পুকুর/দিঘি/ডোবার শ্রেণি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

তবে আমানতগঞ্জের এই ৬৯ শতাংশ পুকুরের ঘটনাই প্রথম নয়। বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তর এর আগেও বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে পুকুর-জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অনুমোদনহীন ও পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারী ইটভাটার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কোথাও বন্ধ, জরিমানা কিংবা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

এ ছাড়া পরিবেশগত বিধিবিধান না মানা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশগত ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিয়মকানুন না মেনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে দ্রুত নগরায়ণ ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে পুকুর-জলাশয় কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধ ইটভাটা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিবেশদূষণ বরিশালের পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করছে। এসব কারণে জলাধার সংরক্ষণ, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবিধি বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

 

বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মোজাহিদুল ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন মাঠপর্যায়ে পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। জলাশয় ভরাট, অবৈধ ইটভাটা ও পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অভিযোগ ও তথ্য যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এ বিষয়ে বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন জানান, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমরা নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। পুকুর-জলাশয় ভরাট, অবৈধ ইটভাটা কিংবা পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারী কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ সংরক্ষণে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বরিশালের সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, পুকুর-জলাশয় রক্ষা, অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারী ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হলে বরিশালের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। তারা পরিবেশ অধিদপ্তরের চলমান অভিযান ও আইনগত পদক্ষেপ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান পরিচালনা করেই থেমে না থেকে অবৈধভাবে ভরাট করা জলাশয় পুনরুদ্ধার, পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং আইন বাস্তবায়নের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...




© All rights reserved DailyAjkerSundarban