রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মিলনমেলায় তালাশ বিডির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন বরিশালের ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মাঠপর্যায়ে তদারকি নেই, ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ বরিশালে পরিবেশদূষণ রোধে তৎপরতা, প্রশংসায় ভাসছেন মুজাহিদুল ও কাজী সাইফুদ্দিন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, বরিশালে কঠোর হচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর বোরহানউদ্দিনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যকে পিটিয়ে জখম  জনকল্যাণ, খেলাধুলা ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যাশা ইউপি সদস্য প্রার্থী সেজান মাহমুদের মেহেন্দীগঞ্জে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুই যুবককে হয়রানির অভিযোগ ‘নতুন বরিশাল’ গড়তে চান এনসিপির মেয়র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন নাজিরপুরে দুর্গাপূজার বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন ইউএনও 
বরিশালের ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

বরিশালের ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বরিশালে নির্মাণাধীন ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের প্রায় ৫০ লাখ টাকার অক্সিজেন পাইপ চুরির ঘটনার পর এবার হাসপাতালটির নির্মাণকাজ, ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদার।

তাঁদের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। প্রকল্পের নির্মাণকাজ নিয়ে ৭০ কোটি টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, সেটিকে সম্পূর্ণ অবাস্তব বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, প্রকল্পের আর্থিক হিসাব, দরপত্রের মূল্য ও বাস্তব নির্মাণকাজের অগ্রগতি বিবেচনায় না নিয়েই এসব অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে চাঁদা না পেয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

* ১৭ তলা হাসপাতাল নির্মাণে ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিতর্ক…….

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন বরিশালের এই বৃহৎ হাসপাতাল প্রকল্পের নির্মাণকাজ যৌথভাবে করছে বঙ্গ বিল্ডার্স লিমিটেড ও মেসার্স খান বিল্ডার্স। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, নিচে দুটি তলা এবং ওপরে ১৫ তলাসহ মোট ১৭ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ৯৯ কোটি ৫১ লাখ ৪৫ হাজার ৬১১ টাকা ৯৭৩ পয়সা। অন্যদিকে দরপত্রে গৃহীত মূল্য ৯৪ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ৮১০ টাকা ৮৬৪ পয়সা। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ভ্যাট ও জামানতের অর্থ বাদ দিলে নির্মাণকাজের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, প্রায় ১০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প থেকে ৭০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, তাঁদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী প্রকৃত কাজের মূল্য যদি প্রায় ৭৪ কোটি টাকা হয়, তাহলে ৭০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবশিষ্ট মাত্র ৪ কোটি টাকা দিয়ে কীভাবে ১৭ তলা ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব? তাঁদের দাবি, প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয়, দরপত্রের মূল্য এবং নির্মাণকাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই না করে এমন অভিযোগ প্রচার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।

* প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রকৌশলীর…..…

হাসপাতাল প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে নানা বাধা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম। তিনি বলেন, “আমি শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও বরিশাল অঞ্চলের মানুষ হিসেবে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছি বরিশালের একমাত্র ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতালটি শতভাগ বাস্তবায়ন করতে। একটি মহল চায় না এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হোক। সব বাধা ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শতভাগ নিশ্চিত করেছি। প্রকল্পের অক্সিজেন পাইপ চুরির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা হাসপাতাল নিয়ে অপপ্রচার করছে, তাদের কেউ কেউ ওই চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তাঁর সন্দেহ। তবে এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান তিনি। ফয়সাল আলমের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল হাসপাতালটির নির্মাণকাজ যথাসময়ে সম্পন্ন হোক, তা চায় না। এ কারণেই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

* ২০১৮ সালের রেটে নির্মাণকাজ, ৭০ কোটি টাকা আত্মসাতের দাবি অবাস্তব: ঠিকাদার…… *

প্রকল্পের ঠিকাদার মিজানুর রহমান বলেন, দরপত্রে গৃহীত মূল্য ৯৪ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ৮১০ টাকা। ভ্যাট ও জামানতের অর্থ বাদ দিলে নির্মাণকাজের মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি তাঁরা ২০১৮ সালের রেট অনুযায়ী নির্মাণকাজ করছেন। তিনি বলেন, “যদি ৭০ কোটি টাকা লুট করা হয়, তাহলে মাত্র ৪ কোটি টাকা দিয়ে ১৭ তলা ভবন নির্মাণ করা সম্ভব? এটি সম্পূর্ণ অবাস্তব কথা। মিজানুর রহমানের অভিযোগ, একটি চাঁদাবাজ চক্র চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন হাসপাতাল, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বৃহৎ এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাঁর প্রতিষ্ঠানের। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা প্রকল্প পরিদর্শনে এলে তাঁদের সঙ্গে থেকে কাজের অগ্রগতি ও নির্মাণের বিভিন্ন বিষয় বুঝিয়ে দেওয়া ঠিকাদারি কাজের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অথচ এ বিষয়টিকেও ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

* আওয়ামী লীগের লোক বানানোর চেষ্টার অভিযোগ…..

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাকে দুটি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। অথচ এখন একটি মহল আমাকে আওয়ামী লীগের লোক বানানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি দাবি করেন, গত তিন বছরে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে দরপত্রের মাধ্যমে তিনি মাত্র দুটি কাজ পেয়েছেন। অথচ তাঁকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব প্রচারণার মাধ্যমে একজন পেশাদার ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

* সাইবার সুরক্ষা আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি……

মিজানুর রহমান বলেন, কোনো প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন বা সমালোচনা থাকলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সঠিক তথ্য ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করে তা করা যেতে পারে। কিন্তু মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করে কারও ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মাধ্যমে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে তাঁর সুনামহানির চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচলিত সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

*বরিশালবাসীর প্রত্যাশা দ্রুত চালু হোক বিশেষায়িত হাসপাতাল…….

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, নিজ অঞ্চলে উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য এ অঞ্চলের অসংখ্য মানুষকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছুটতে হয়। এতে রোগীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়। এ বাস্তবতায় বরিশালের ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতালটি শুধু একটি ভবন নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা।

বরিশালবাসীর প্রত্যাশা, হাসপাতালটি নিয়ে ওঠা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করা হবে। কোনো অনিয়ম বা ষড়যন্ত্র থাকলে তার সঙ্গে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সব বাধা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত হাসপাতালটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন এবং চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...




© All rights reserved DailyAjkerSundarban