বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:: বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রণজিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে প্রকল্প তদারকিতে অনীহা, সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে নিষ্ক্রিয়তা এবং অতীতের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ও দপ্তরসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের কাছ থেকে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল উপসচিব (ত্রাণ প্রশাসন-২) মুনিরা সুলতানার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাঁকে সাতক্ষীরা জেলায় বদলি করা হয়। একই আদেশে মাগুরার তৎকালীন ত্রাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে বরিশালে পদায়ন করা হয়েছিল। তবে দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি বলে জানা গেছে।
সূত্রের অভিযোগ, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের কাজ নিয়মিত সরেজমিন পরিদর্শন ও তদারকি করা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নে যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি জিআর ত্রাণ বিতরণেও স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহার নিয়ে। সূত্রের দাবি, সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য বরাদ্দ করা গাড়ি দিয়ে ব্যক্তিগত ঘোরাঘুরি, বাজার করা এবং সন্তানকে স্কুল থেকে বাসায় আনার মতো পারিবারিক কাজ করা হয়। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে গাড়ির লগবুক, চলাচলের রেকর্ড ও জ্বালানি খরচের হিসাব পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অপর একটি সূত্র জানায়, বর্তমান জেলা প্রশাসকের সময়ে রণজিত কুমার সরকারের দাপ্তরিক দায়িত্ব অনেকটা সীমিত রয়েছে। অতীতের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কারণে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়েছে বলেও সূত্রটির দাবি। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রশাসনিক আদেশ পাওয়া যায়নি।
এদিকে একটি পৃথক সূত্রের দাবি, রণজিত কুমার সরকার এর আগে বরগুনা সদর উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলার মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং কারাবরণ করেছিলেন। ওই সময় তৎকালীন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিষয়টি তিনিও স্বীকার করেছেন যে তাকে বরগুনায় সবাই এমপি সাহেবের ছেলে বলে সম্বোধন করত।
অভিযোগের বিষয়ে রণজিত কুমার সরকার বলেন, বদলির বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। দায়িত্ব হস্তান্তরে কিছু জটিলতা থাকায় তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, মাঠপর্যায়ের তদারকি নিয়ম অনুযায়ী করা হচ্ছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।