সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:: দীর্ঘদিনের দাপট-সন্ত্রাস নিয়ে ফের তোলপাড়য়দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার ছত্রছায়ায় দাপিয়ে বেড়ানো ঝালকাঠির বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তি শামীম আহমেদ ওরফে ‘জর্দা শামীম’ অবশেষে আইনের জালে ধরা পড়েছেন। রংপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে বিদেশি মদসহ গ্রেফতার হয়েছেন তিনি ও তার ছোট ভাই আরিফ। এ ঘটনায় ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (০৬ মে) গভীর রাতে রংপুর সদর উপজেলার একটি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয় বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুরের পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক।
পুলিশ আরো জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে শুধুমাত্র মদের মামলাই নয়, জর্দা শামীমের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য বিতর্ক, ভয়ভীতি, প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ।
ঝালকাঠি পৌর এলাকার পূর্ব কাঠপট্টি মহল্লার মৃত শাহাবুদ্দিন মিয়ার ছেলে শামীম আহমেদ স্থানীয়ভাবে ‘জর্দা শামীম’ নামেই পরিচিত। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সহসভাপতি পদে থাকলেও রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের।
ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব বলয় ও ক্যাডার সিন্ডিকেট। তার নাম শুনলেই সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়তেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, হাট-বাজার, জমিজমা থেকে শুরু করে বিভিন্ন টেন্ডার ও আধিপত্যের রাজনীতিতে তার অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ ছিল বলে এলাকায় ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে জমি দখল, ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়, অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল এবং প্রতিপক্ষকে দমন করতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ বহু পুরোনো। স্থানীয়দের অভিযোগ, জর্দা শামীমের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা এলাকায় ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে কথিত ‘টর্চার সেল’ পরিচালনার বিষয়টি। অভিযোগ আছে, সেখানে নারী-পুরুষদের আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। যদিও এসব অভিযোগের অনেকগুলো এখনও আদালতে বিচারাধীন বা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি, তবুও স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে তার দাপট ও নির্মমতার নানা কাহিনি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।
এছাড়াও অস্ত্র প্রদর্শন, ক্যাডার বাহিনী লালন-পালন এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে নিজেকে ‘অপ্রতিরোধ্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময় প্রশাসনের নীরবতা ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। অবশেষে বিদেশি মদসহ রংপুরে গ্রেফতারের ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে জর্দা শামীমের নাম। স্থানীয়রা বলছেন, এ গ্রেফতার শুধু একটি মামলার বিষয় নয়; বরং দীর্ঘদিনের দাপট, ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
এদিকে জর্দা শামীমের গ্রেফতারের খবরে ঝালকাঠিজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনাকে “অবশেষে আইনের কাছে জবাবদিহি” বলেও মন্তব্য করছেন।