বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বরিশালে পরিবেশদূষণ রোধে তৎপরতা, প্রশংসায় ভাসছেন মুজাহিদুল ও কাজী সাইফুদ্দিন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, বরিশালে কঠোর হচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর বোরহানউদ্দিনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যকে পিটিয়ে জখম  জনকল্যাণ, খেলাধুলা ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যাশা ইউপি সদস্য প্রার্থী সেজান মাহমুদের মেহেন্দীগঞ্জে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুই যুবককে হয়রানির অভিযোগ ‘নতুন বরিশাল’ গড়তে চান এনসিপির মেয়র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন নাজিরপুরে দুর্গাপূজার বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন ইউএনও  বরিশালে মরহুম সাংবাদিক আলতাফ হোসেন স্মরণে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বরিশালে ১০ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে এবি পার্টির স্মারকলিপি বরিশালে ১০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক
বরিশালে পরিবেশদূষণ রোধে তৎপরতা, প্রশংসায় ভাসছেন মুজাহিদুল ও কাজী সাইফুদ্দিন

বরিশালে পরিবেশদূষণ রোধে তৎপরতা, প্রশংসায় ভাসছেন মুজাহিদুল ও কাজী সাইফুদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক:: পরিবেশদূষণ ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বরিশাল বিভাগজুড়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অবৈধ ইটভাটা, জলাশয় ও পুকুর ভরাট, নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে বিভাগীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব ও তদারকি করছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম। অন্যদিকে, বরিশাল জেলা পর্যায়ে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন। পরিবেশ রক্ষায় তাঁদের এ তৎপরতা প্রশংসা কুড়াচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

জানা গেছে, পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বিভাগের বিভিন্ন জেলায় পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে কার্যক্রম জোরদার করেন। তাঁর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন জেলায় পরিবেশদূষণ রোধে অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, কাজী সাইফুদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর বরিশাল জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর থেকে জেলার পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বরিশাল জেলায় ৮১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে এবং আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি ও কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালকের নির্দেশক্রমে মাঠপর্যায়ে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিবেশের ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত প্রতিষ্ঠান, পুকুর ও জলাশয় ভরাট, নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার এবং হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবেশদূষণের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযানকে তাঁরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষ করে পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ডের তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানালে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

বরিশালের একাধিক স্থানীয় সংবাদকর্মী জানান, কাজী সাইফুদ্দিনের সঙ্গে তাঁদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য তাঁকে জানালে তিনি তা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন, প্রয়োজনীয়ভাবে যাচাই করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁদের মতে, গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার এমন মানসিকতা পরিবেশ রক্ষার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বিভাগীয় পরিচালক মুজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্ব ও তদারকি এবং জেলা পর্যায়ে সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিনের মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা অব্যাহত থাকলে বরিশাল বিভাগের পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পরিবেশদূষণ ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি, অভিযান এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বরিশাল গড়ে তোলার প্রত্যাশা তাঁদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...




© All rights reserved DailyAjkerSundarban