রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বরিশাল বিএনপির মাসুম ও সাহিনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, প্রাথমিক সদস্য পদ পুনর্বহাল বরিশাল বিএনপির ফরিদ উদ্দিন ও সেলিনা বেগমে’র বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, সাবেক সদস্যপদ পূর্ণবহাল বরিশাল বিএনপির ফিরোজ সিদ্দিক রুপনসহ ১২ নেতার সদস্যপদ পুনর্বহাল  ঝালকাঠিতে ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মনুকে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্র-অপপ্রচার বেতাগী ছাত্রলীগ নেতা সজীব বরিশালে গ্রেপ্তার রাজাপুরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতায় রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে উল্লাস  ঢাকার ছাত্রলীগ নেতা বরিশালে পুলিশের হাতে আটক অবৈধ ইটভাটায় কঠোর বার্তা পরিবেশ অধিদপ্তরের, চার ভাটায় মোটা অঙ্কের জরিমানা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সুন্দরবন পত্রিকার শোক বরিশালে দত্তক নেওয়া শিশুকে দীর্ঘদিন নির্যাতনের অভিযোগ, নারী গ্ৰেফতার
সড়কবাতি ও সিসি ক্যামেরা বিহীন ভয়ংকর রাতের বরিশাল নগরী

সড়কবাতি ও সিসি ক্যামেরা বিহীন ভয়ংকর রাতের বরিশাল নগরী

তানজিমুন রিশাদ:: বরিশাল নগরী ক্রমেই এক শিল্পনগরীতে পরিণতের পাশাপাশি হয়ে ওঠছে সম্ভাবনাময়ীও। ৩০ ওয়ার্ডের এই সিটি কর্পোরেশনে গত দশ বছরে কাঙ্খিত উন্নয়ন বঞ্চিত হয়ে অবহেলিত এক মহানগরীতে পরিণত হয়েছে।সুপরিকল্পিত নগরায়ণের অভাবে সিটির বাসিন্দারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সিটির বর্ধিত এলাকাগুলোতে আরও বেশি বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে নাগরিকরা৷

গোটা সিটি এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ড বাদে বাকি সব গুলোয় রাস্তা-ঘাট অনুন্নত, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে জলাবদ্ধতা আর সড়কবাতি ও সিসি ক্যামেরা বিহীন অধিকাংশ রাস্তায় গভীর রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকার যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্যে রুপ নেয়।

আর এতে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও কর্মজীবিরা। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে সড়কবাতি থাকলেও একাধিক ওয়ার্ডের চিত্র ভিন্ন। সন্ধ্যা নামলেই এসব ওয়ার্ডের অলিগলি রুপ নেয় ঘুটঘুটে অন্ধকারে।
আর এতে একদিকে যেমন মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিগ্ন ঘটে অন্যদিকে সক্রিয় হয়ে ওঠে অপরাধী চক্র।

সড়কবাতি বিহীন ঐসব এলাকার অলিগলি অপরাধের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়। উঠতি বয়সী তরূনরা আড্ডাসহ মাদক সেবন ও বিক্রির নিরাপদ স্পট হিসেবে বেছে নেয়।

যার ফলস্বরূপ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায়সই মাদক ব্যবসায়ী সহ নানা অপরাধে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।

সচেতন মহলের দাবী, নগরীর এসব অলিগলীতে সড়কবাতি স্থাপন কিংবা সচল থাকলে অধিকাংশ অপরাধ সংঘটিত হত না।

পাশাপাশি বিকল সিসি ক্যামেরাগুলোকে সচল করতে পারলে অপরাধ শুণ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করতে হবে।

এদিকে বর্তমানে এই মহানগরীতে রাত হলে বেশ কয়েকটি স্পটে অপরাধ বেশি সংঘটিত হচ্ছে বলে চিহ্নিত করেছে পুলিশ৷

এর মধ্যে নগরীর কাউনিয়া,নিউ সার্কুলার রোড,নবগ্ৰাম রোড,গোরস্থান রোড,কলেজ এভিনিউ,আমানতগঞ্জ,ভাটিখানা, চাঁদমারী, রুপাতলী এলাকা৷ আর বিশেষ করে কলোনী এলাকার অধিকাংশ যায়গাজুড়েই নেই সড়কবাতি। একই সাথে নেই সিসি ক্যামেরাও। আর যেসব সড়কে ক্যামেরা ও সড়কবাতি আছে সেগুলোও অচল। আর এতেই রাতের এ স্পট যেন অপরাধীদের অভয়াশ্রম।

বিশেষ করে সাগরদী ও রুপাতলীতে গত ১ মাসে ন্যাক্কারজনক সংঘটিত বেশ কয়েকটি ঘটনা পুরো আইনশৃঙ্খলা বাহীনি সহ নাগরিকদের বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে।এমনকি অপরাধী চক্র থেকে রেহাই পায়নি খোদ এক সাংবাদিকও।

গত জুলাই মাসের ২৪ তারিখ অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথে রুপাতলী এলাকায় দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েন স্থানীয় দৈনিক সত্য সংবাদ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক এম আর শুভ। জানা গেছে, ঐদিন রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে অফিসের কাজ শেষ করে রুপাতলী এলাকার বাসায় ফিরছিলেন শুভ। পথিমধ্যে ঘুটঘুটে অন্ধকারাচ্ছন্ন সড়ক ও সিসি ক্যামেরা বিহীন মহাসড়কের একটি স্পটে পড়েন দুর্বৃত্তদের কবলে। দুর্বৃত্তদের ধারালো রামদার আঘাতে গুরুত্বর জখম হয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীনও ছিলেন তিনি। অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে মামলা করলেও পুলিশও কাউকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়নি ।তাই অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।

এরকম শুধু একটি ঘটনাই নয়। সিসি ক্যামেরা ও সড়ক বাতি বিহীন বেশ কয়েকটি স্পটে গভীর রাতে একাধিক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম, মালামাল ছিনতাইসহ একাধিক অপরাধমুলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত করছে চক্রটি।

এছাড়াও সাগরদী ধান গবেষণা সড়ক, টিয়াখালি, জিয়া সড়ক সহ বেশকিছু এলাকায় সম্প্রতি কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ‌ আর এতে অপরাধ প্রবণতা আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ও সচেতন মহল।

সচেতন মহল মনে করছেন,সড়ক বাতি ও সিসি ক্যামেরা থাকলে এমন ঘটনা হ্রাস পেতো। পাশাপাশি অভিযুক্তদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারতো পুলিশ।

অপরাধ হ্রাসকল্পে দ্রুত এসব এলাকার সড়কবাতি ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়সহ ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রসাশনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘আমাদের যেসব পোলে বাতি জ্বলে না সেগুলো চিহ্নিত করে কাজ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি। আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান,সিটি কর্পোরেশনের ক্যামেরা তারা নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে পুলিশের সিসি ক্যামেরাগুলো সচল আছে এবং ইতিপূর্বে বেশকিছু ঘটনার সাথে জড়িতদের সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বদা সক্রিয় রয়েছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...




© All rights reserved DailyAjkerSundarban