সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:: ঝালকাঠি-২(সদর ও নলছিটি) আসনের নির্বাচনি মাঠে এবারের ভোটের হিসাব ক্রমেই দুই প্রার্থীকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। একদিকে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম,অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক এজিএস শেখ নেয়ামুল করিম রাজনীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে এলাকায় একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। এসব কাজের কারণে তাকে ভোটের মাঠে একজন পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে দেখছেন অনেক ভোটার।
নির্বাচনি প্রচারণায় শেখ নেয়ামুল করিম বলেন,
“আমি এমপি না হয়েও মানুষের জন্য কাজ করেছি। যদি জনগণ আমাকে দায়িত্ব দেয়, তাহলে এর চেয়েও বেশি কাজ করা সম্ভব হবে। আমার রাজনীতি সহজ কথা ও পরিষ্কার চিন্তার রাজনীতি। দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়াই হবে আমার প্রধান অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, ঝালকাঠি-২ আসনকে একটি শৃঙ্খলিত ও নিরাপদ জনপদে পরিণত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করা হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি নৈতিকতা ও সামাজিক শুদ্ধতার ওপর জোর দেন তিনি।
অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এই আসনের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। ২০০১ সালে তিনি এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দলের পুরোনো ভোটব্যাংক তার শক্তির জায়গা হলেও এবারের নির্বাচনে দলীয় অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ তাকে সতর্ক অবস্থানে রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই আসনে আরও কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও তারা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে অনেকেই দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও কাজের রেকর্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেই বিবেচনায় শেখ নেয়ামুল করিমের সামাজিক কর্মকাণ্ড ও স্পষ্ট অবস্থান তাকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মত অনেকের।
সব মিলিয়ে ঝালকাঠি-২ আসনে এবারের নির্বাচন ক্রমেই দ্বিমুখী লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত ভোটের রায়ে কোন প্রতীক বিজয়ী হবে—তা নির্ধারিত হবে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্তের ওপর।