সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক::ঝালকাঠি সদর উপজেলার ১ নং গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বীরমহল গ্রামের বাসিন্দা সমাজসেবক মোঃ রিয়াজ মুন্সীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য সায়মা আক্তার ঝুমুর তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেন।
তবে স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই ইউপি সদস্য সায়মা আক্তার ঝুমুরের
স্বামী সুজন বেপারী ও শ্বশুর আবু তালেব বেপারী অতীতে আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই মহিলা ইউপি সদস্য অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কার্ড ও সহায়তা প্রদান করতেন। টাকা ছাড়া তিনি কোনো সরকারি সহায়তা দিতে নারাজ ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অনিয়মের বিষয় জানতে পেরে সমাজসেবক মোঃ রিয়াজ মুন্সী প্রতিবাদ জানালে ইউপি সদস্য তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সেলিমের মোটরসাইকেল প্রতীকের পক্ষে ওই মহিলা ইউপি সদস্যসহ বিএনপি-র কতিপয় নেতৃবৃন্দ সমর্থন জোগান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ‘ম্যানেজ’ কৌশল ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। এসব অনিয়মে বাধা দেওয়ায় সমাজসেবক রিয়াজ মুন্সীর বিরুদ্ধে চক্রান্তমূলকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
আরো জানা গেছে, অতীতে রিয়াজ মুন্সী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দায়ের হয়। বর্তমানে তিনি সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকায় সরকারি বিধি মোতাবেক সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে এসেছেন।
তবে এলাকায় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে। তিনি সমাজের উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে নিয়মিত যুক্ত রয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে সব সময় পাশে থাকেন। মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের উপকারে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান এলাকাবাসী।
এব্যাপারে আলাপকালে মোঃ রিয়াজ মুন্সী তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি। ভবিষ্যতেও দেখাতে পারবে না। আমি বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সায়মা আক্তার ঝুমুরের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে কথা না বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।