সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক::ঝালকাঠিতে গরিবের সুলতান নামে পরিচিত শামীম আহমেদকে (জর্দা শামীম) ঘিরে উঠছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। পোস্টার ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে নিজেকে জনদরদী হিসেবে উপস্থাপন করলেও তার বিরুদ্ধে ভিন্ন চিত্রের কথা বলতে শুরু করেছেন অনেকেই। যা শুনে চোখ কপালে ওঠার মতো।
স্থানীয়দের দাবি, সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু-র ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেও তিনি আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, শামীম আহমেদ ও তার সহযোগীরা এক অসহায় কর্মচারীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের মতো নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এখনো আছেন, জাস্ট ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছুদিন আগে ভাইরাল হয়ে ঘৃণিত আলোচনায় স্থান পেয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস হলেও তার সন্ত্রাসী ও মিথ্যা মামলা দেয়ার বাহিনীর ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলে জোর প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
এছাড়া চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নিজ ভাইদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গাড়ি ও অফিসেও হামলা চালানো এবং আগনায়স্ত্র দিয়ে গুলি চালাতেও দ্বিধা করেননি এই বিতর্কিত সামিম। স্থানীয়দের ভাষ্য, পারিবারিক ঐতিহ্য-সম্মানের কথা ভেবেই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘৃণিত অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আনছেন না তাঁর ভাইয়েরা।
এদিকে এলাকায় আরও গুঞ্জন রয়েছে—মাদক সংশ্লিষ্টতা, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে বড় ধরনের অপরাধের পর বিদেশে আশ্রয় নেওয়ার মতো অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি প্রশাসন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এত অভিযোগের পরও যদি সঠিক তদন্ত না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রতিপক্ষ বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অস্ত্র বা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েও উদ্দেশ্য সফল না হলে তিনি ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এমন কিছু নারীকে ব্যবহার করে সম্মানিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বা বিতর্কিত মামলা দায়ের করানোর মাধ্যমে তাদের সামাজিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ধরনের কৌশলের মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হয়।
এ ধরনের একটি ঘটনার কথাও উঠে এসেছে আরো অনুসন্ধানে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুদিন আগে তার আপন বড় ভাই, ঝালকাঠি শহরের পরিচিত সমাজসেবক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব শামসুল হক মনু (মনু মিয়া)-র প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে তার স্ত্রী মামলা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বিষয়টি জানার পর শামীম আহমেদ ওই নারীকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ওই নারীকে বোঝানো হয়—স্বামীর বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি আরেকজনের নাম যুক্ত করলে অভিযুক্তকে শাস্তির আওতায় আনা এবং ক্ষতিপূরণ আদায় করা সহজ হবে। পরে ওই নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মামলায় “মনু” নামে পরিচিত ব্যক্তিকে জড়িয়ে দেন।
তবে মামলার নথিতে “মনু” নামের পরিবর্তে “শামসুল হক” নাম উল্লেখ করা হয়, যা নিয়ে ঝালকাঠি জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কারণ, শহরে “মনু মিয়া” নামে পরিচিত ব্যক্তি হচ্ছেন সমাজসেবক শামসুল হক মনু।
পরবর্তীতে মামলার বাদী জানতে পারেন যে মামলায় উল্লেখ করা “শামসুল হক” আসলে শহরের সুপরিচিত সমাজসেবক মনু মিয়া। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে মামলার নথি থেকে তার নাম প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে মনু মিয়া ও তার পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে শামীম আহমেদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দৈনিক আজকের সুন্দরবন এর অনুসন্ধান চলছে শামীমের সকল অপরাধের ধারাবাহিক পর্ব দেখে রাখতে চোখ রাখুন দৈনিক সুন্দরবন পত্রিকার পাতায়।