শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:: বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাসানচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুজন মাতুব্বর ও তাঁর চাচাতো ভাই খোকন মাতুব্বরের বিরুদ্ধে দুই যুবককে হয়রানি, মারধর ও প্রভাব খাটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী দুই যুবক জান্নাত সিকদার ও সোলেমান হাওলাদারকে পরে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে জরিমানা করে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার ভাসানচর ইউনিয়নের গুদিঘাটা গ্রামে সরকারি লিজ নেওয়া একটি পুকুরে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, সুজন মাতুব্বর ও তাঁর অনুসারীরা পুকুরটির লিজগ্রহীতাকে মাছ চাষে বাধা দেন এবং মাছ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় লিজগ্রহীতার পক্ষ থেকে জান্নাত, ফাহতসহ পুকুর দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা থানায় ও উপজেলা বিএনপির কাছে অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার সুজন মাতুব্বর ও খোকন মাতুব্বর কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে জান্নাত সিকদার ও সোলেমান হাওলাদারের বাড়ির সামনে যান। এ সময় তাঁদের মারধর করা হয় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে কাজিরহাট থানা থেকে পুলিশ গিয়ে তাঁদের থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের পক্ষের দাবি, গুদিঘাটা গ্রামের রাস্তায় গবাদিপশু চুরি প্রতিরোধে রাতের বেলায় আলোর ব্যবস্থা করতে কয়েকজন যুবক দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অর্থায়নে কাজ করে আসছিলেন। ওই কাজের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক কেব্ল তাঁদের কাছে ছিল। কিন্তু কেব্লকে কেন্দ্র করে খালে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ তোলা হয়। তাঁদের দাবি, এ অভিযোগ সঠিক নয় এবং তাঁরা কোনো অপরাধ করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি জানেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে দুই যুবককে পুলিশে দেওয়া হয়। তবে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে দুই যুবককে উপজেলা প্রশাসনের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের জরিমানা করে মুক্তি দেন। তবে কোন আইনে এবং কী অভিযোগে তাঁদের জরিমানা করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুজন মাতুব্বরের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তার, অর্থ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। গাছ বিক্রি, পুকুরের মাছ বিক্রি এবং জমি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলে দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন জমাদ্দার ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা সুজন মাতুব্বরের কথিত অপকর্মের দায় দল নেবে না বলে জানিয়েছেন বলে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, দুই যুবককে থানায় নেওয়া এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা। এ বিষয়ে কাজিরহাট থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং অভিযুক্ত সুজন মাতুব্বর ও খোকন মাতুব্বরের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।