শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে দত্তক নেওয়া এক কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে এক নারীকে গ্ৰেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযোগের তদন্তে গিয়ে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আমবাগান ক্লাব রোড এলাকার বাসিন্দা অ্যাডলিন বিশ্বাস (৩৫+) রাষ্ট্রীয় নিয়ম মেনে একটি অনাথ কিশোরীকে দত্তক নেন। পড়ালেখা ও সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কিছুদিনের মধ্যেই শিশুটিকে দিয়ে গৃহস্থালি কাজ করানো শুরু হয়। কাজের ভুলত্রুটি হলে মারধর ও অবমাননাকর আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের তদন্তে আরও উঠে আসে, অভিযুক্ত নারীর আপন ভাই জনি বিশ্বাস দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটির ওপর যৌন নিপীড়ন চালান বলে অভিযোগ। নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকলে ভয়ে কিশোরীটি গত নভেম্বরের শেষ দিকে বাসা থেকে পালিয়ে যায়।
পালিয়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য অভিযুক্ত নারী কোতয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সেই জিডির তদন্তে গিয়ে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং এরপরই ঘটনাটির ভয়াবহ দিকগুলো সামনে আসে।
কোতয়ালি থানাধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম মো. নাসিম জানান, উদ্ধারকৃত কিশোরী আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তার বক্তব্য পর্যালোচনা করে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত নারী ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং গ্ৰেফতারের আদেশ জারি করেন।
আদালতের নির্দেশে সোমবার রাতে অভিযানে অ্যাডলিন বিশ্বাসকে গ্ৰেফতার করা হলেও তার ভাই জনি বিশ্বাস পালিয়ে যায়। পরে শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় গ্ৰেফতার দেখিয়ে অভিযুক্ত নারীকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আল-মামুন উল ইসলাম বলেন,“এটি অত্যন্ত বর্বর ও অমানবিক একটি ঘটনা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।”
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, নগরীর অভ্যন্তরে একটি বাসায় এমন অপরাধ সংঘটিত হতে পারে-তা কল্পনারও বাইরে।