বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল অঞ্চলে পরিবেশ সুরক্ষায় একের পর এক দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ থেকে শুরু করে জলাশয় ও দিঘি ভরাটের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা-সব মিলিয়ে সংস্থাটির ধারাবাহিক অভিযানে পরিবেশ রক্ষায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরিচালিত ধারাবাহিক মোবাইল কোর্ট অভিযানে অসংখ্য অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এসব অভিযানে লাখ, লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলামের দিকনির্দেশনা ও তদারকিতে অভিযান পরিচালনা করেন কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মাঠপর্যায়ে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযানগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন।
বরিশালের বাবুগঞ্জ, বরিশাল সদর, হিজলা, বাকেরগঞ্জ,বানারীপাড়া ও পার্শবর্তী জেলা ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় পরিচালিত অভিযানে জিগজ্যাগ, ড্রাম চিমনি ও পাঁজা প্রযুক্তির অবৈধ ইটভাটার কিলন ও চিমনি ভেঙে দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ইটভাটার আগুন নির্বাপণ করে বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়। অভিযানে পুলিশ, ১০ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সক্রিয় সহযোগিতা করেন।
পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন,“পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন,“মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি ও তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনাগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে। কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা আমাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিতে পারবে না।”
শুধু ইটভাটাই নয়, জলাশয় ও পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা রক্ষায়ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সম্প্রতি বরিশাল নগরীর রুপাতলি এলাকার লালা দিঘি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে। একইভাবে কাউনিয়া ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় পুকুর ভরাটের খবর পেয়ে সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অবৈধ ইটভাটা, জলাশয় ভরাটসহ পরিবেশবিধ্বংসী সব ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চাপ, অপপ্রচার ও প্রশাসনের দৃঢ়তা অভিযান পরিচালনার পর অবৈধ ইটভাটা মালিকদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিছু প্রভাবশালী মহল ভুল তথ্য দিয়ে মনগড়া সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের মানসিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। তবে এসব অপচেষ্টার মধ্যেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অটল রয়েছেন।
পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলামের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীনের মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার কারণেই বরিশালে পরিবেশ রক্ষায় এই ধারাবাহিক সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
একজন পরিবেশকর্মী বলেন, “এই অভিযান শুধু অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করেনি, এটি পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ উদ্যোগ আরও জোরদার হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের আওতাধীন সব জেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।