সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন

বাবুগঞ্জে শিশু রাইসার দিনমজুর বাবার পাশে মানবিক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান

বাবুগঞ্জে শিশু রাইসার দিনমজুর বাবার পাশে মানবিক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালের বাবুগঞ্জে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পুড়িয়ে হত্যা করা ৯ বছরের শিশু রাইসা মনির দিনমজুর বাবার পাশে দাঁড়িয়েছেন দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদের মানবিক চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত, জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মশিউর রহমান।

তিনি রাইসা মনির বাবা হতদরিদ্র নজরুল ইসলাম হাওলাদারের হাতে ঘর মেরামতের জন্য তুলে দিয়েছেন নগদ ৫০ হাজার টাকা। এসময় মেয়ের হত্যা মামলার অগ্রগতিসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন তিনি।

গত সোমবার রাইসা মনির বাবাকে নিজ বাড়িতে ডেকে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান। এসময় ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে রাইসা মনির পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিকবার পুরস্কারপ্রাপ্ত বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, ‘দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের শিশু রাইসা মনির মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয় বিদারক।এই ঘটনার সাথে যে বা যারাই জড়িত থাকুক তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, রাইসার বাবা নজরুল দিনমজুরি করেন। আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বসতঘরের টিনের বেড়া ভেঙে গেছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে তাদের পরিবারের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ঘর মেরামতের জন্য কিছু অনুদান দিয়েছি। ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রয়োজনে কিংবা বিপদে-আপদে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।’

উল্লেখ্য গত ১৫ মার্চ দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের দিনমজুর নজরুল ইসলাম হাওলাদারের ১০ বছরের শিশুকন্যা রাইসা মনিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশি বখাটে কিশোর সিফাত সিকদারের বিরুদ্ধে।

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাইসার শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাইসাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ওই দিন রাতেই সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর আগে অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে নেওয়ার পথে একটি ভিডিও জবানবন্দি দেয় রাইসা মনি। ১১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে অগ্নিদগ্ধ শিশু রাইসাকে বলতে শোনা যায়, “আমারে খারাপ জিনিস কইছে, আমি হুনি নাই দেখে সিফাত আমার গায়ে আগুন দিছে।

এদিকে এ ঘটনায় রাইসার বাবা নজরুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে বখাটে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সিফাত সিকদার ও তার বাবা জালাল সিকদারকে অভিযুক্ত করে বাবুগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরে আসামি গ্রেপ্তার না করে উল্টো বাদীর পরিবারকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ১৮ মার্চ বিকেলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে আসামি গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

তবে আল্টিমেটামের সময় পার হওয়ার আগেই পরদিন ভোরবেলা বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের স্থানীয় এক নেতার হস্তক্ষেপে অভিযুক্ত পিতা-পুত্র উভয়ে বাবুগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...




© All rights reserved DailyAjkerSundarban