মঙ্গলবার, ২৮ Jul ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:: ক্ষমতার পালাবদল হলেও নলছিটির মগড় ইউনিয়নে পূর্ব রায়াপুর এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের নেতা সোহাগ খানের প্রভাব কমেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায় স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীর সঙ্গে সখ্য রেখে এলাকায় আগের মতোই প্রভাব বিস্তার, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীদের সংগঠিত ও পুনর্বাসনের চেষ্টা এবং এ কাজে অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন সোহাগ খান। নিজেকে ভূমিহীন দেখিয়ে সরকারি জায়গা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ক্ষমতার পালাবদলের পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তিনি নিজের প্রভাব ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অপর একটি সূত্র জানায় এছাড়া নলছিটির সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বিজন কৃষ্ণ খরাতির বদৌলতে সে সময়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের কাজের সঙ্গে সোহাগ খান যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ওই সময় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সাবেক পিআইও বিজন কৃষ্ণ খরাতির বিরুদ্ধেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রভাব বিস্তার করেসোহাগ খানের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, ভূমি দখল এবং নামে-বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। এমনকি ভূমিহীনদের জন্য সরকারিভাবে যে জমি বরাদ্দ দেয়া হয় নিজেকে ভূমিহীন দেখিয়ে সেই জমিও নিয়েছেন তিনি।
সুত্র আরো জানায় তার নামে ও বেনামে থাকা সম্পদের প্রকৃত উৎস এবং এসব সম্পদের বিপরীতে সরকারি ভ্যাট-ট্যাক্স যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় জুলাই আন্দোলন বিরোধী একটি মামলায় সোহাগ খান এজাহার নামীয় আসামী বলেও জানা গেছে। একই সূত্রের দাবি, পুলিশের নথিতে তিনি পলাতক থাকলেও বাস্তবে এলাকায় প্রকাশ্যেই চলাফেরা করছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার পালাবদলের পরও সোহাগ খান আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীদের পুনরায় সংগঠিত ও সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন। এমনকি তাদের পুনর্বাসনের পেছনে অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই কাজগুলো তিনি অতি গোপনে করে থাকেন বলে জানা যায় ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে সোহাগ খান অনেকটা ‘ধরা ছোঁয়ার বাইরে’ রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি তাদের। ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও এলাকায় তার প্রভাব ও দাপট কমেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সচেতন মহল , সোহাগ খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে সরকারি সম্পত্তি, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ, ঠিকাদারি কাজ, ভূমি দখল, নামে-বেনামে সম্পদ এবং আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে অর্থ সহায়তার অভিযোগ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে সোহাগ খানের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নলছিটি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুজ্জামান বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে তিনি অংশগ্রহণ করেন কি না, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া অভিযোগের অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, তিনি আসামি হয়ে থাকলে খোঁজ নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”