মঙ্গলবার, ২৮ Jul ২০২৬, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বরিশালে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় ৪ জন আটক, শোরুম থেকে উদ্ধার ২ চোরাই বাইক নলছিটিতে ক্ষমতার পালাবদলেও বদলায়নি যুবলীগ নেতা সোহাগের প্রভাব উন্নয়নের নামে ঝালকাঠি পৌরসভায় হরিলুটের অভিযোগ বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডা হাজী মোহাম্মদ মহসিন হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী কমিটি গঠন, সভাপতি সেলিম ও সম্পাদক খোকন নির্বাচিত বরিশালে প্রাথমিকে বৃত্তি পেল মেধাবী শিক্ষার্থী কাজী সালমান বরিশালে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পাশে ছাত্রদল নেতার মানবিক উদ্যোগ বরিশাল জেলা আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির ২৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতা ফরিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বরিশালে পুলিশের অভিযানে সাবেক শ্রমিকলীগ নেতা
বরিশালে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় ৪ জন আটক, শোরুম থেকে উদ্ধার ২ চোরাই বাইক

বরিশালে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় ৪ জন আটক, শোরুম থেকে উদ্ধার ২ চোরাই বাইক

নিজস্ব প্রতিবেদক: :বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির সময় চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। পরে মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে একটি মোটরসাইকেল শোরুম থেকে দুইটি চোরাই মোটরসাইকেল ও চুরি কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল মালিক সায়েম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আটককৃতরা হলেন- নগরীর ভিআইপি গেট এলাকার ছাহাল মটর্সের মালিক তাজুল ইসলাম রানা, ক্লাব রোডের মুখের রানা মেকানিক, এবং আজমীর ও শান্ত।

 

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকার আমবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সায়েম তার মোটরসাইকেল রেখে বন্ধুদের সঙ্গে পাশেই আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকারে করে কয়েকজন সেখানে আসে। পরে মেকানিক রানা সায়েমের মোটরসাইকেলের তালা ভাঙার চেষ্টা করেন। এ সময় তার সহযোগীরা আশপাশে অবস্থান করছিলেন।

 

বিষয়টি সায়েমের এক বন্ধু দেখতে পেয়ে দ্রুত মোটরসাইকেলের কাছে ছুটে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

এর কিছুক্ষণ পর নগরীর ভিআইপি গেট এলাকার ছাহাল মটর্সের মালিক তাজুল ইসলাম রানা একটি লোহার রড হাতে নিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে সায়েম ও তার বন্ধুদের সঙ্গে উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়রা ডিবি পুলিশকে খবর দেন।

 

এসআই রাকিবের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে আটক করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে নগরীর ভিআইপি গেট এলাকার ছাহাল মটর্স থেকে দুইটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চোরাই কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, আটক তাজুল ইসলাম রানার শোরুম থেকে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন। তাদের দাবি, এর আগেও তার বিরুদ্ধে মাদক ও মোটরসাইকেল চুরিসংক্রান্ত অভিযোগের কথা এলাকায় আলোচিত ছিল।

 

এছাড়া আটক রানা মেকানিকের বিরুদ্ধেও অতীতে একাধিক চোরাই মোটরসাইকেল সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতারের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এদিকে সচেতন মহলের দাবি, নগরীতে মোটরসাইকেল চুরি বন্ধ করতে হলে শুধু চোরদের আটক করলেই হবে না; চুরি হওয়া মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত পুরাতন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী, মেকানিক ও সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রমও কঠোর নজরদারির আওতায় আনতে হবে।

 

তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু মেকানিক ও পুরাতন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ও প্রশ্রয়ের কারণেই চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল সহজে বিক্রি বা গোপন করা সম্ভব হচ্ছে। তাই চোরচক্রের পাশাপাশি তাদের সহযোগী ও উৎসাহদাতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, আটক মেকানিক রানার দোকানের মালিক রাজু। নগরীর সাউথ কিং রেস্টুরেন্টের বিপরীতে তার ‘জান্নাত স্টোর’ নামে একটি দোকান রয়েছে।

 

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রানা মেকানিকের কর্মকাণ্ড নিয়ে এর আগেও দোকান মালিক রাজুকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগের পরও তিনি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে দোকান মালিকের অজ্ঞাতসারে এসব কর্মকাণ্ড চলছিল কি না, কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মোটরসাইকেল মালিক ও এলাকাবাসী জানান, প্রয়োজন হলে তারা দোকানের সামনে মানববন্ধনসহ আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।

 

ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে আটক হওয়ার খবর পেয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী সেখানে ছুটে যান। তারা সিসিটিভি ফুটেজে মেকানিক রানার সঙ্গে মিল পেয়েছেন বলে দাবি করেন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সায়েম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবি পুলিশের এসআই রাকিব বলেন, “মোটরসাইকেল চুরির সময় স্থানীয়রা চারজনকে আটক করে আমাদের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ছাহাল মটর্স থেকে দুইটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। চুরি কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে। মোটরসাইকেল মালিক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিদের কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

এদিকে নগরীতে মোটরসাইকেল চুরি বন্ধের বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চুরি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মোটরসাইকেল চুরিসহ সব ধরনের অপরাধ বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...




© All rights reserved DailyAjkerSundarban