মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:: পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ত্রাণ বরাদ্দ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টেস্ট রিলিফ (টিআর), জেনারেল রিলিফ (জিআর), খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মফিজুর রহমান। স্থানীয় সূত্রের দাবি, উপজেলার শিয়ালকাঠী, আমড়াজুড়ীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে টিআর প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের একাধিক কাজের ক্ষেত্রে বরাদ্দ ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব কাজের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। কিছু প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকটি প্রকল্প
কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে তার দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, গত জুন মাসে অর্থবছরের শেষ দিকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পরিশোধ করা হলেও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ তখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, অসমাপ্ত কাজের বিপরীতে বিল দাখিল ও পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দাসেরকাঠি গ্রামের মেবার আলী শেখের বাড়ি থেকে মোতাছের মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার খালের পুনঃখনন প্রকল্প নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী কাজের একটি অংশ শ্রমিক (লেবার) দিয়ে এবং বাকি অংশ ভেকু (খননযন্ত্র) দিয়ে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রায় পুরো কাজই ভেকু দিয়ে করা হচ্ছে। এছাড়া খননকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, যথাযথ গভীরতা ও প্রশস্ততা নিশ্চিত না হওয়ায় পুনঃখননের পরও খালটি কৃষি সেচ, পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারবে না। ফলে এ প্রকল্পের প্রত্যাশিত সুফল থেকে এলাকার কৃষকরা বঞ্চিত হতে পারেন।
ত্রাণ কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, জিআর বরাদ্দের একটি অংশ এমন কিছু নামসর্বস্ব বা কার্যত নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানের নামে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া সংসদ সদস্যের বরাদ্দের আওতায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও নিয়মিত তদারকির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, কার্যকর মনিটরিং না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কাজের মান ও প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকল্প, বাজেট ও টেন্ডারসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। সচেতন মহলের মতে, তথ্য প্রকাশে ঘাটতির কারণে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রকৃত চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে আসছে না।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ “অফিস খরচ” হিসেবে কেটে রাখা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশে অফিস সহায়ক এসব অর্থ সংগ্রহ করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, “কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম করার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। বিশেষ করে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সেটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”