মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:: বরিশাল সদর উপজেলার লাকুটিয়া খালসহ দুটি খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ পাওয়া সরকারি অর্থ চলতি অর্থবছরে কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অর্থ কোনো ধরনের অপচয় বা অনিয়মের কারণে নয়, বরং খালের বাস্তব অবস্থা, বিদ্যমান অবকাঠামোগত জটিলতা এবং চলতি বর্ষা মৌসুমে কাজ বাস্তবায়নের অনুপযোগী পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে খননকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ইজিপিপি’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরিশাল সদর উপজেলার দুটি খাল পুনঃখননের জন্য মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘মরখখোলার পোল থেকে ঝড়ঝড়িয়াতলা বাজার হয়ে মাঝি বাড়ির ব্রিজ’ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার খাল খননের জন্য ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা বরাদ্দ ছিল। এছাড়া চরবাড়িয়া ইউনিয়নের আরেকটি খাল খনন প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৭৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় বরাদ্দের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমের কাজের সময়ও শেষ পর্যায়ে। খালে পানি থাকায় এ সময়ে খননকাজ পরিচালনা করা কঠিন। পাশাপাশি খালের বিভিন্ন অংশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করাও সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, লাকুটিয়া খালের একটি অংশ বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। খালের এক পাশে রয়েছে সড়ক এবং অপর পাশে শ্মশান ও বিসিক শিল্পনগরী। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট কালভার্ট থাকায় খালের পুরো অংশে স্টেভেটর বা এক্সকাভেটর দিয়ে খননকাজ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে শ্রমিক দিয়ে ম্যানুয়ালি খনন করলেও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে চলতি অর্থবছরে কাজ না করে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে পুনরায় বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ থাকলে লাকুটিয়া খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এবার খালের বাস্তব অবস্থা, সিটি করপোরেশন এলাকার অংশ, সড়ক, শ্মশান, বিসিক শিল্পনগরী ও কালভার্টসহ বিদ্যমান সব প্রতিবন্ধকতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট ও নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়। শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজ ও সেচব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়ে। তাই সরকারি অর্থ ফেরত যাওয়ায় কোনো অপচয় না হলেও আগামী অর্থবছরে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন খন্দকার জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কেন প্রকল্পগুলো চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। তবে লাকুটিয়া ও জেল খাল নিয়ে তার পরিকল্পনা রয়েছে, যা শিগগিরই জানানো হবে।