বুধবার, ২৯ Jul ২০২৬, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:: পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ত্রাণ বরাদ্দ ব্যবস্থাপনা ঘিরে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টেস্ট রিলিফ (টিআর), জেনারেল রিলিফ (জিআর) এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ মফিজুর রহমান। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিয়ালকাঠী,আমড়াজুড়ী সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে টিআর প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়নে বরাদ্দ ও মাঠপর্যায়ের কাজের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক প্রকল্পে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে কাগজে প্রকল্প সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে তার দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যায়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, গত জুন মাসে অর্থবছরের শেষ দিকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পরিশোধ করা হলেও এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ তখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বিল দাখিল ও পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ খাতের জিআর বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু নামসর্বস্ব বা কার্যত নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে সংসদ সদস্যের বরাদ্দের আওতায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, নিয়মিত তদারকি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কাজের মান ও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এছাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকল্প, বাজেট ও টেন্ডারসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, তথ্য প্রকাশে ঘাটতির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে আসছে না।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ “অফিস খরচ” হিসেবে কেটে রাখা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশে অফিস সহায়ক এসব অর্থ সংগ্রহ করেন। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমানের বক্তব্য জানার জন্য মুঠোফোন কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে ফোন দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রস্তাব পাঠান।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।